Skip to main content

প্রাথমিক চিকিৎসা -শরীরের কোন অংশ কেটে গেলে


একটু আগে বাবার আদরের মেয়ে অবনী পেয়ারা কাটতে যেয়ে বটিতে হাত কেটে ফেলেছে। সারা বাড়িতে এই নিয়ে হুলস্থূল কান্ড।হাত কেটে যাওয়ায় অবনী চিল্লিয়ে কাঁদতেছে,তার মা রক্ত দেখে অস্থির, তিনি উদভ্রান্তের মত এ ঘর থেকে ও ঘর দৌড়াচ্ছেন আর তার ছোট বোন কি করবে বুঝেই উঠতে পারছে না! অন্যদিকে অবনীর হাত থেকে ক্রমাগত রক্ত ঝরতেছে........বাসায় যে ক'জন আছে কারোরই প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে তেমন কোন ধারণা নেই।
এরকম ঘটনা কিন্তু শুধু অবনীর-ই না,আমাদের সবারই দৈনন্দিন জীবনে অনেক রকম দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।এজন্য চিকিৎসা সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান থাকা শুধু জরুরীই নয়,অপরিহার্য ও বটে।এখন প্রশ্ন হলো -

প্রাথমিক চিকিৎসা কি?

প্রাথমিক চিকিৎসা বা ফার্স্ট এইড (ইংরেজি: First aid): নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তির শারীরিক অক্ষমতা, ক্ষতিগ্রস্ততা বা আঘাতপ্রাপ্তির প্রেক্ষাপটে সাধারণ জ্ঞানের উপর নির্ভর করে অস্থায়ী চিকিৎসাবিশেষ।

প্রাথমিক চিকিৎসা কেন জরুরীঃ
১। আহত ব্যক্তির জীবন রক্ষা সম্ভব।
২। রােগী বা আহত ব্যক্তির অবস্থার অবনতি রােধ করা।
৩। আহতদের চিকিৎসায় সহযােগীতা করা।
কথায় আছে,'সময়ের এক ফোঁড় অসময়ের দশ ফোঁড়'।সময় মত প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে পারলে আহত ব্যক্তির ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়।অনেক সময় প্রাথমিক চিকিৎসায় মূল চিকিৎসার অংশ হয়ে যায়।
এখন আসি,অবনী প্রসঙ্গে অর্থাৎ কেটে যেয়ে রক্তপাত হওয়া প্রসঙ্গে, এক্ষেত্রে প্রাথমিক চিকিৎসা কি হতে পারে-
এক্ষেত্রে কি করবেন?
১।. একটা পরিষ্কার কাপড় বা গজ দিয়ে কাটা স্থানটি চেপে ধরে রাখুন। পরিষ্কার কিছু না পেলে হাত দিয়েই চাপ দিয়ে রাখুন।টানা ২০ থেকে ৩০ মিনিট চাপ দিয়ে ধরে রাখলে রক্ত জমাট বেঁধে রক্তপাত বন্ধ করে দেবে। এক টুকরো বরফ পেঁচিয়েও ধরে রাখতে পারেন। রক্ত বন্ধ হয়েছে কি না তা বারবার খুলে দেখবেন না।
২। হৃৎপিণ্ডের অবস্থানের চেয়ে কাটা অংশটি বেশি উঁচুতে ধরে রাখুন। রক্তপাতের অঙ্গটি বিশ্রামে রাখুন, নড়াচড়া বন্ধ করে দিন। যেমন কারও হাত কেটে গেলে হাতটিকে সহজেই হৃৎপিণ্ডের অবস্থানের চেয়ে ওপরে নেওয়া সম্ভব। পা কিংবা শরীরের অন্যান্য যেসব অংশ উঁচু করে রাখা যাচ্ছে না, সেসব অংশের নড়াচড়া বন্ধ করে দিতে হবে।
৩।রক্ত বন্ধ হয়ে গেলে পরিষ্কার পানি দিয়ে জায়গাটা ধুয়ে নিন। সাবান বা আয়োডিন ও আয়োডিনজাত অ্যান্টিসেপটিক অনেক সময় জ্বালা করে। তাই সাধারণ ট্যাপের পানিই ভালো।
৩. ধোয়া হয়ে গেলে পাতলা স্তরে এন্টিসেপ্টিক মলম লাগান কাটা স্থানে। এধরনের মলম সবসময় ঘরে রাখা উচিত। এবার একটা পাতলা গজ বা ব্যান্ডেজ দিয়ে আটকে দিন।
অর্থাৎ স্টেপগুলো হলো -
.কাঁটাস্থান চেপে রাখা-২. উঁচুতে রাখা-৩.পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়া-৪.এন্টিসেপ্টিক লাগানো-৫.ব্যান্ডেজ


আর রক্তপাত বন্ধ না হলে-
আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করুন। হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেরি হলে এবং রক্তপাত কোনোভাবেই বন্ধ করা না গেলে রোগীর জীবন বাঁচানোর শেষ চেষ্টা হিসেবে কাটা অংশটি খুব শক্ত করে বেঁধে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন।
তবে মনে রাখবেন, এটি ঝুঁকিপূর্ণ। দীর্ঘক্ষণ শক্তভাবে বেঁধে রাখার ফলে আক্রান্ত অংশের রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে রোগীর জীবন বাঁচলেও অঙ্গটি অকেজো হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় রক্তপাত বন্ধ করার নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। হাতের কাটা অংশ থেকে রক্তক্ষরণ হতে থাকলে বাহু বাঁধতে হবে। পায়ের কাটা অংশ থেকে রক্তক্ষরণ হতে থাকলে ঊরু বাঁধতে হবে। হালকা করে বাঁধা হলে রক্তক্ষরণ আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই শক্তভাবে বাঁধতে হবে।
হাসপাতাল দূরে হলে অন্তত কাছের কোনো চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে শিরায় স্যালাইন শুরু করে দেওয়া ভালো। সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে বিষয়টা জরুরি।
আর যদি মরিচাধরা কোন ধাতব ধাঁরালো বস্তু যেমন পুরাতন ছুরি,কাঁচি বা পেরেক দিয়ে কেটে যায় তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ মত টিটেনাস টিকা নিতে হবে এবং প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে কাঁটা স্থানটা খুব ভালো করে পরিষ্কার করে ধুতে হবে।
বি.দ্রঃছবি গুগল থেকে সংগ্রহ করা।

Comments